আমন মৌসুম ও চাল আমদানিতে বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত আমন মৌসুম ও চাল আমদানিতে বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত

CPM NETWORK

Cpm Network

আমন মৌসুম ও চাল আমদানিতে বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত

সমকালের পাতা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫
sonail news

আর মাত্র ১০–১৫ দিনের মধ্যে আমন ধান কাটার মূল মৌসুম শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের কিছু অঞ্চলে রোপা আমনের ধান ঘরে তোলা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কিছু পরিমাণ চাল আমদানি হওয়ায় বাজারে ধীরে ধীরে স্বস্তির আভাস মিলছে। যদিও নতুন ধান এখনো পুরোপুরি বাজারে ওঠেনি, তবু পুরোনো কিছু জাতের চালের দাম কমেছে। জিরা, পাইজাম, গুটি স্বর্ণা প্রভৃতি জাতের চাল কেজিপ্রতি ১–২ টাকা পর্যন্ত কমেছে, যা গত সপ্তাহেও একইভাবে কমেছিল। অর্থাৎ দুই সপ্তাহে দাম মোট ৪ টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। তবে সার্বিকভাবে দাম এখনো তুলনামূলক বেশি রয়ে গেছে।

শনিবার রাজধানীর মালিবাগ, সেগুনবাগিচা, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও মানিকনগরসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগের আমদানি করা চালের মজুত এখনো পর্যাপ্ত আছে। তার ওপর ১৫–২০ দিনের মধ্যেই নতুন চাল বাজারে আসবে। ফলে মিলমালিক ও আমদানিকারকেরা মজুত চাল দ্রুত বিক্রি করে দিচ্ছেন, যার প্রভাবে বাজারে দামের কিছুটা পতন দেখা যাচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা দোকানে শম্পা কাটারি ও নাজিরশাইল জাতের সরু চাল বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৭৮–৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০–৮২ টাকা। জিরাশাইল, মিনিকেট, জিরা নাজির প্রভৃতি সরু চালের দামও কেজিপ্রতি ১–২ টাকা কমে ৭০–৭৬ টাকায় নেমেছে। তবে ব্রি-২৮ চালের দাম অপরিবর্তিত থেকে কেজিপ্রতি ৫৮–৬০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

মোটা জাতের চাল যেমন পাইজাম ও গুটি স্বর্ণার দামও কিছুটা নেমেছে—বর্তমানে এসব চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০–৫৬ টাকায়, যেখানে গত সপ্তাহে তা ছিল ৫২–৫৮ টাকা। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে মাঝারি ও মোটা দুই ধরনের চালের দামই গড়ে ১–২ টাকা কমেছে। মাঝারি মানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮–৭০ টাকায় এবং মোটা চাল ৫৪–৬০ টাকায়।

মানিকনগর বাজারের মরিয়ম স্টোরের মালিক মো. ইউসুফ বলেন, “নতুন চাল এখনো আসেনি, কিন্তু বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। অনেক চালেই কেজিপ্রতি ১–২ টাকা কমেছে।” তিনি আরও জানান, আমন মৌসুমে পাইজাম, জিরা ও স্বর্ণা জাতের উৎপাদন বেশি হওয়ায় এসব চালের দাম আরও কিছুটা নামতে পারে।

চলতি বছর বোরো মৌসুমে ফলন ভালো হলেও জুনের পর থেকে চালের দাম বেড়ে যায়—জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের চালের দাম কেজিতে প্রায় ৮–১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত দাম স্থিতিশীল থাকলেও গত দুই সপ্তাহে ধীরে ধীরে তা কমতে শুরু করেছে। পাইকাররা বলছেন, এই দাম কমার পেছনে আমদানির চেয়ে নতুন আমন ধান কাটাই বড় ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কাউসার আলম বাবু জানান, খুলনাসহ কয়েকটি জেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে, আর অচিরেই অন্য জেলাগুলোতেও শুরু হবে। এরই মধ্যে সরকার বেসরকারি পর্যায়ে আরও ১ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে ৫ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দামও কমছে।

পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীদের হিসাবে, গত ১০–১৫ দিনে প্রতি কেজি চালের দাম ৪–৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে গুটি স্বর্ণা ও অন্যান্য মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫–৫২ টাকায়, আর সরু জাতের চাল যেমন জিরাশাইল, নাজিরশাইল ও মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬২–৮০ টাকায়। মাঝারি মানের ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ বিক্রি হচ্ছে ৫৪–৫৮ টাকায়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৪ লাখ ২৫ হাজার ৬৮০ টন চাল আমদানি হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, দেশে বছরে মোট চালের চাহিদা প্রায় ৩ কোটি ৭–৯ লাখ টন, যেখানে স্থানীয় উৎপাদন বোরো ও আমন মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি ৪৩ লাখ টন। এর মধ্যে আমন মৌসুমে উৎপাদন হয় প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টনের কিছু বেশি। তবুও বিভিন্ন সময় উৎপাদন ব্যয় ও বাজার পরিস্থিতির কারণে চালের দাম বাড়ে, যার ফলে আমদানির প্রয়োজন দেখা দেয়।

ট্যারিফ কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিই সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। সংস্থাটি মনে করে, দীর্ঘমেয়াদে শুল্ক ছাড় দিয়ে চাল আমদানি অব্যাহত থাকলে স্থানীয় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই উৎপাদন ব্যয় কমাতে কাঁচামাল সহজলভ্য করা এবং নীতি-সহায়তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

CPM NETWORK

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
SEO Solution Lab
©somakalerpata
Developer Design Host BD