অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক প্ল্যাটফর্ম MTFE-এর মাধ্যমে পাচার হওয়া বিপুল অর্থের একটি অংশ উদ্ধার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার জানান, উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি।
সিআইডি জানায়, “MTFE Ponzi Scheme”-এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী প্রতারণার শিকার হন। ২০২৩ সালের আগস্টে খিলগাঁও থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তে এ জালিয়াতির চিত্র সামনে আসে।
তদন্তে জানা গেছে, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে প্ল্যাটফর্মটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হয়। তবে বাস্তবে কোনো বৈধ লেনদেন না থাকলেও ব্যবহারকারীদের ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্টে কৃত্রিমভাবে লাভ দেখানো হতো।
প্রথমদিকে কিছু অর্থ ফেরত দিয়ে আস্থা অর্জনের পর ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় চক্রটি। বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে স্থানান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়।
সিআইডি জানায়, পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ OKX-এ সংরক্ষিত ছিল। ব্লকচেইন বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর সন্ধান পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আইনগত প্রক্রিয়ায় তা ফেরত আনা হয়।
আদালতের নির্দেশে সোনালী ব্যাংক-এ একটি সরকারি হিসাবে অর্থ জমা করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যভিত্তিক Asset Reality Limited-এর সহায়তায় ক্রিপ্টোকারেন্সিকে বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করা হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় স্বল্প সময়েই এই অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং বাকি পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি কর্মকর্তা সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রলোভনমূলক বিনিয়োগ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।