বিশ্বে ৮০ কোটি তরুণ কর্মসংস্থানহীন ভবিষ্যতের মুখোমুখি : ইউএনডিপি বিশ্বে ৮০ কোটি তরুণ কর্মসংস্থানহীন ভবিষ্যতের মুখোমুখি : ইউএনডিপি

CPM NETWORK

Cpm Network

বিশ্বে ৮০ কোটি তরুণ কর্মসংস্থানহীন ভবিষ্যতের মুখোমুখি : ইউএনডিপি

সমকালের পাতা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
undp

আগামী ১৫ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে যাওয়া প্রায় ১২০ কোটি তরুণের মধ্যে ৮০ কোটিই কোনো কর্মসংস্থান খুঁজে পাবে না বলে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। দেশগুলো এখনই নীতিগত পরিবর্তন ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নিলে এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী চাকরিহীন ভবিষ্যতের মুখোমুখি হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

জাতিসংঘের অফিশিয়াল ব্রডকাস্টার ইউএন ওয়েব টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত সদর দপ্তরের নিয়মিত মধ্যাহ্নকালীন সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হয়ে মঙ্গলবার এই বিশ্বজনীন সতর্কবার্তা দেন সংস্থাটির প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বার্ষিক সভার সাইডলাইন থেকে তিনি ভার্চুয়ালি এই অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নেন।

ইউএন ওয়েব টিভির পর্দায় ২২ মিনিট ৯ সেকেন্ডের এই ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে ডি ক্রুকে সংস্থার নতুন নীতিগত প্রতিবেদন ‘নো টাইম টু রিকভার’-এর মূল রূপরেখা প্রদর্শন করতে দেখা যায়।

তিনি ডিজিটাল স্ক্রিনে বৈশ্বিক জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধির চার্ট ও প্রযুক্তির বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘যদি নীতিগত পরিবর্তন ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এখনই না নেওয়া হয়, তবে এই সংকট নিজে থেকে সমাধান হবে না। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকাংশ মানুষের গড় বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছর, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’

লাইভ ব্রিফিংয়ে বিশ্বব্যাপী চলমান ‘ত্রিমুখী ধাক্কা’ (উচ্চ ঋণ পরিশোধ, তীব্র এল নিনো এবং জ্বালানি সংকট)-এর রূপরেখা গ্রাফিক্সের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন ইউএনডিপি প্রধান। তিনি পর্দায় দেখান যে, বর্তমানে মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের মোট রাজস্ব আয়ের ৯.৫ শতাংশই ব্যয় করছে ঋণের সুদ মেটাতে, যা উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় তিনগুণ এবং গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আরও ১৩ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্েযর শিকার হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

এই সংকট মোকাবিলায় ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ইউরোপীয় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংকের অংশীদারিত্বে ইউএনডিপির দুটি নতুন বৈশ্বিক ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ ‘ইনভেস্টমেন্ট অ্যাক্সিলারেটর’ ও ‘জবস ফর প্রসপারিটি ফ্যাসিলিটি’-র আনুষ্ঠানিক লোগো ও স্লাইড উন্মোচন করেন তিনি।

ইতিমধ্যে নেপাল, ইয়েমেন, হাইতি, লেবানন ও ঘানায় এর পাইলট কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়টিও তিনি স্ক্রিনে দেখান।

ব্রিফিংয়ের শেষ অংশে জাতিসংঘ সদর দফতরে উপস্থিত সাংবাদিকদের স্ক্রিনের মাধ্যমে সরাসরি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ডি ক্রু।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিমা খাতের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসার ঘটলেও সেবা খাত, কৃষি ও পর্যটনের মতো শ্রমঘন খাতগুলোয় বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব।

২০১৫ সালে এশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষতির বিপরীতে মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলারের বিমা থাকার উদাহরণ টেনে তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে সুরক্ষার আহ্বান জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ের সমাপনী বক্তব্যে ডি ক্রু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি ও বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে জোর দিয়ে বলেন, মানুষকে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য থেকে বের করে আনতে বিশ্বজুড়ে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

CPM NETWORK

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২৩
৪৫৬৭৮৯১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
SEO Solution Lab
©somakalerpata
Developer Design Host BD