মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি জরুরি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি জরুরি

CPM NETWORK

Cpm Network

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি জরুরি

সমকালের পাতা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
inflation imf price hike mv8za4hi8hyexjp 20261015093013

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশকে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলা মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয়। এজন্য আর্থিক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক সোনালি জৈন চন্দ্র।

সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সোনালি জৈন চন্দ্র বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর পাশাপাশি অন্যান্য সংস্কারও জরুরি। বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত এবং মূল্যস্ফীতি এই তিন ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

দুর্বল আর্থিক খাত নিয়ে উদ্বেগ
বাংলাদেশের আর্থিক খাতের দুর্বলতা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, দেশের আর্থিক খাত বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে খাতটির সক্ষমতা বাড়ানো এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এজন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। আর্থিক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা এবং খাতটির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে বলে মনে করছে আইএমএফ।

রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ
বাংলাদেশের দুর্বল রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতিও আইএমএফের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বর্তমানে এ অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন অনুপাতগুলোর একটি।

আইএমএফের মতে, উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহ এবং আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করার জন্য সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য রাজস্ব ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও জোর দিয়েছে সংস্থাটি। অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করছে আইএমএফ।

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত
এদিকে বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সোনালি জৈন চন্দ্র জানান, আগের কর্মসূচির আওতায় আর ঋণের কিস্তি না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর গত মে মাসে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আইএমএফের সহায়তায় নতুন একটি কর্মসূচির অনুরোধ জানায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। ওই সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আইএমএফের কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় উঠে আসা সংস্কারের বিষয়গুলো চলতি বছরের আর্টিকেল ফোর পরামর্শে উল্লেখ করা সুপারিশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জুলাইয়ের ওই সফরের পর থেকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইএমএফের নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সোনালি জৈন চন্দ্র বলেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংস্থাটির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে আইএমএফ আগ্রহী।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

CPM NETWORK

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২৩
৪৫৬৭৮৯১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
SEO Solution Lab
©somakalerpata
Developer Design Host BD