সবজির বাজারে আগুন, মাছের দামও চড়া সবজির বাজারে আগুন, মাছের দামও চড়া

CPM NETWORK

Cpm Network

সবজির বাজারে আগুন, মাছের দামও চড়া

সমকালের পাতা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
IMG 20251212 130800

প্রকৃতিতে শীতের স্নিগ্ধ হাওয়া বইতে শুরু করেছে, আর সেই সঙ্গে বাজারে দেখা মিলেছে মৌসুমি সবজির প্রাচুর্য। কিন্তু এই প্রাচুর্য যেন এক অলীক স্বপ্ন—কারণ দামের পারদ নামছেই না! ফুলকপি, শিম, গাজরের মতো শীতের সবজি বাজারে উপচে পড়লেও বিক্রেতারা দামের লাগাম টানতে পারছেন না। 

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস—সবকিছুর দামই চড়া। পাইকারি বাজারে সামান্য তারতম্য এলেও খুচরা বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়ছে না, ফলে অতিরিক্ত দামেই পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। 

এদিনের বাজার ঘুরে জানা যায়, বেশিরভাগ সবজির দাম এখনো প্রতি কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। অন্যদিকে, মাছের দামেও কোনো স্বস্তি নেই।

মাঝারি আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও, বেগুন, গাজর, শসা, কাঁচা মরিচ এবং নতুন আলু প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও, ঝিঙা ও শিম ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং বরবটি ও করলা ১০০ টাকার ঘরে রয়েছে। 

অন্যদিকে, মাছের বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ (মাঝারি) ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং বড় চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এই চড়া দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বাজেটের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে।

এদিকে বয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, সোনালী ২৮০ টাকা, লেয়ার ৩০০ টাকা, দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা আমিল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, শীত আসলে সবজির দাম কমে যাওয়ার কথা, কিন্তু এবার উল্টো। দাম বেশি হওয়ায় আগে যেসব সবজি এক কেজি করে কিনতাম, এখন তার অর্ধেক কিনতে হচ্ছে। পরিবারের বাজেট সামলানো কঠিন।

মালিবাগ বাজারের আরেক ক্রেতা শহিদুল ইসলামের ভাষ্য, বছরের সব সময় ধরেই মাছের দাম খুব বেশি থাকে। এত বেশি দামে মাছ কিনে খাওয়া সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে কষ্টসাধ্য।

অন্যদিকে, বিক্রেতারা বলছেন সরবরাহ ঘাটতি এবং পরিবহন ব্যয়ের কথা। মালিবাগ বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আসাদ আলী জানান, পাইকারি বাজারেই সরবরাহ কম, ফলে আমরা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছি।

যাত্রাবাড়ী আড়তের ব্যবসায়ী নাঈম আহমেদের মতে, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টির কারণে ক্ষেতের গাছ নষ্ট হয়েছে এবং ফলন কমে গেছে। এছাড়া পাইকারি থেকে খুচরা পর্যন্ত কয়েক ধাপে হাতবদল হওয়ায় দাম বাড়ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মৌসুমি সবজি উঠলেও সমন্বিত বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নির্বিঘ্ন সরবরাহ নিশ্চিত না হলে এই উচ্চমূল্যের চাপ ভোক্তাদের বয়ে বেড়াতেই হবে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

CPM NETWORK

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২৩
৪৫৬৭৮৯১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
SEO Solution Lab
©somakalerpata
Developer Design Host BD