হাওর ও জলাভূমি অবৈধ দখলে ২ বছর জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা হাওর ও জলাভূমি অবৈধ দখলে ২ বছর জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা

CPM NETWORK

Cpm Network

হাওর ও জলাভূমি অবৈধ দখলে ২ বছর জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা

সমকালের পাতা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
hawor 20260115103038 1024x576 1

হাওর ও জলাভূমি অবৈধ দখল, ভরাট বা ক্ষতিসাধনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। বুধবার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সারা দেশের হাওর ও জলাভূমির একটি সরকারি তালিকা প্রণয়ন করা হবে। জেলা প্রশাসকদের সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তালিকা প্রকাশ করবে এবং প্রয়োজনে সময় সময় তা সংশোধন বা হালনাগাদ করা হবে।

হাওর ও জলাভূমির সুরক্ষা, সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও নিয়মিত হালনাগাদ করবে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর। এই পরিকল্পনা সরকারের বিদ্যমান নীতি ও কৌশলপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা হবে।

অধ্যাদেশে সরকারকে প্রয়োজনে কোনো হাওর বা জলাভূমিকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সংস্থা ও অংশীজনদের মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

হাওর বা জলাভূমি এলাকায় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মতামত নিতে হবে। বিধি অনুযায়ী মতামত গ্রহণ না করলে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে হাওর ও জলাভূমির প্রতিবেশ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে মহাপরিচালক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তা পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারবেন। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া যাবে, যা মানা বাধ্যতামূলক।

অধ্যাদেশে বিভিন্ন অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। জারি করা আদেশ বা নির্দেশ লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। সংরক্ষিত ঘোষিত হাওর ও জলাভূমি এলাকায় নিষেধাজ্ঞা ভাঙলে একই মেয়াদে কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

হাওর ও জলাভূমি বা কান্দা অবৈধ দখল, ভরাট, অননুমোদিত খনন বা রূপান্তরের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছর জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়—এমন অবকাঠামো নির্মাণ বা কার্যক্রম পরিচালনাও একই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এ ছাড়া অনুমোদন ছাড়া মাটি, বালু, পাথর বা অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন, পানি-মাটি ও পরিবেশ দূষণ, নিষিদ্ধ জাল বা বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করে মাছ ধরা এবং জলজ প্রাণীর প্রজনন ব্যাহত হলে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

পরিযায়ী পাখি বা সংরক্ষিত জলজ প্রাণী শিকার, জলাবন বা কান্দার বন ধ্বংস কিংবা প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট করলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

[atn_photocard]
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

CPM NETWORK

আর্কাইভ

SEO Solution Lab
©somakalerpata
Developer Design Host BD