দুদকে অভিযোগের পর ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা বরখাস্ত দুদকে অভিযোগের পর ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা বরখাস্ত

CPM NETWORK

Cpm Network

দুদকে অভিযোগের পর ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা বরখাস্ত

সমকালের পাতা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
ISLAMI BANK PLC

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির এক কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দেওয়ার পর সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী মতিঝিলে ব্যাংকটির ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখায় ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ইসলামী ব্যাংক ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ একাডেমিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি মূল বেতনের অর্ধেক পাবেন।

ইয়াসীন আলী গত ২৯ জুলাই দুদকে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলমসহ ৩৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতি, আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মঙ্গলবার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়।

ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হেড অফিসের পূর্বানুমোদন ছাড়া দুদকে অভিযোগ দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে ইয়াসীন আলীর দাবি, শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ীই তিনি অভিযোগটি জমা দিয়েছেন। কেন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বরখাস্তের শর্ত কী-এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

তিনি বলেন, এস আলম গ্রুপের ঋণসংক্রান্ত অনিয়মের ঘটনায় ইসলামী ব্যাংকের একাধিক মামলা রয়েছে। আদালতের নির্দেশনার পর একটি মামলার তথ্য সরবরাহের অংশ হিসেবেই দুদককে সংশ্লিষ্ট ঋণসংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দুদকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে কমিশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। কমিশন গঠনের পর অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগকারী কর্মকর্তা হেড অফিসের অনুমোদন ছাড়াই দুদকে অভিযোগ করেছেন। এ কারণে মানবসম্পদ বিভাগ তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুদকে দেওয়া অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নামের বানান ভুল করে ‘মো. শাহাবুদ্দিন’ লেখা হয়েছে এবং সেখানে তার রাষ্ট্রপতির পরিচয় উল্লেখ না করে ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো পরস্পরের যোগসাজশে জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ইসলামী ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করে। পর্যাপ্ত জামানত ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়া এসব ঋণ অনুমোদন করা হয়, ফলে ব্যাংকটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড একসময় একটি রুগ্ণ ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান ছিল এবং এর বিনিয়োগসীমা ছিল ১০০ কোটি টাকা। পরে ধাপে ধাপে সেই সীমা ২০০ কোটি টাকা এবং একপর্যায়ে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে হেড অফিসে ঋণ প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে ২০১৭ সালের ২০ জুন থেকে ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত এক্সিকিউটিভ বোর্ডের বিভিন্ন সভায় এসব ঋণ অনুমোদন করা হয়।

ঋণ পরিশোধের জন্য ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত একাধিকবার তাগাদাপত্র ও চূড়ান্ত তাগাদাপত্র পাঠানো হলেও ঋণ পরিশোধ করা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস ওরফে ইউনুস বাদল, গ্যালাক্সি সোয়েটার্স অ্যান্ড ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেড এবং প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন পরিচালক।

এ ছাড়া এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান এস আলমকে ওই ঋণসুবিধার সুবিধাভোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের তালিকায় ইসলামী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক, নির্বাহী কমিটির সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) এবং আরও কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তার নামও রয়েছে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

CPM NETWORK

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
SEO Solution Lab
©somakalerpata
Developer Design Host BD