ভুল দিকে ফিরে নামাজ পড়লে করণীয় ভুল দিকে ফিরে নামাজ পড়লে করণীয়

CPM NETWORK

Cpm Network

ভুল দিকে ফিরে নামাজ পড়লে করণীয়

সমকালের পাতা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
prayer worship muslimmaghri 20260926120224

পশ্চিম দিক বা কিবলার দিকে ফিরে নামাজ আদায় করেন মুসলমানরা। নামাজ আদায়ের জন্য কিবলার দিকে ফেরা জরুরি। কিবলা ছাড়া নামাজ আদায় হয় না। নামাজের সময় বান্দা বাহ্যিকভাবে কিবলার দিকে মুখ করে এবং তার অন্তর আল্লাহ অভিমুখী থাকে।

মুসলিম-জাতির জন্য এক কিবলা অর্থাৎ কাবার দিকে ফিরে নামাজ আদায়ের বিধান দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আর তুমি যেখান থেকে বের হও না কেন, মসজিদুল হারাম (কাবা শরীফের) দিকে মুখ ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই থাক না কেন, ওই (কাবার) দিকেই মুখ ফিরাবে। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫০)

আল্লাহর নবী (সা.) যখন নামাজে দাঁড়াতেন, তখন (ফরজ, নফল সব নামাজেই) কাবা শরীফের দিকে মুখ ফিরাতেন। কেউ একজন ভুলে অন্য দিকে ফিরে নামাজ আদায় করার কারণে তিনি বলেছিলেন, নামাজে দাঁড়ানোর নিয়ত করার আগে ভালোভাবে অজু করে নেবে। এরপর কিবলার দিকে মুখ করে তাকবির বলবে। (বুখারি, মুসলিম)

কখনো কিবলার দিক নিয়ে সন্দেহ হলে তা জানার যথাসাধ্য চেষ্টা করে এরপর নামাজ আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় কাউকে পাওয়া গেলে তাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। না পাওয়া গেলে প্রবল ধারণার ভিত্তিতে কিবলা নির্ধারণ করে নামাজ আদায় করলে সেই নামাজ হয়ে যাবে।

বর্তমানে কিবলার দিক নির্ণয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য অ্যাপের কম্পাস বা অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। এসবের মাধ্যমে কিবলার দিক নির্ধারণ করে নামাজ আদায় করলে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে সহীহ হবে।

আর চিন্তাভাবনা করে কিবলা নির্ধারণ করে নামাজ আদায় করার পর যদি কিবলা ভুল প্রমাণিত হয়, তবে বিশুদ্ধতম মতানুসারে নামাজ আবার পড়তে হবে না।

হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমরা এক সফর বা সামরিক অভিযানে রাসুলুল্লাহর (সা.) সঙ্গে ছিলাম। এ সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায়। তখন আমরা কিবলার দিক নির্ণয়ে চিন্তাভাবনা করি। কিন্তু আমাদের মধ্যে মতভেদ হওয়ায় প্রত্যেকে নিজ নিজ ধারণা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করি। নিজেদের অবস্থান চিহ্নিত করে রাখতে আমাদের একজন তার সামনে মাটিতে দাগ টেনে রাখলেন । সকালে আমরা দেখলাম যে, আমরা কিবলার দিকে নয়; বরং অন্য দিকে মুখ করে সালাত পড়েছি। তখন আমরা বিষয়টি রাসুলুল্লাহর (সা.) এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বলেন, তোমাদের নামাজ যথেষ্ট হয়েছে (অর্থাৎ পুনরায় নামাজ আদায় করতে হবে না)। (সুনানে কুবরা, বায়হাকি, ২২৩৫)

বিখ্যাত ফকীহ মাহমুদ বিন মাযাহ (রহ.) বলেন, যদি কারও কিবলার দিক নির্ণয়ে সন্দেহ হয় এবং সে যথাযথ চিন্তাভাবনা করার পর যেদিক কিবলা বলে তার প্রবল ধারণা হয়, সেদিকে সে নামাজ আদায় করে, তাহলে তার নামাজ হয়ে যাবে। যদিও পরে জানতে পারে যে, তার কিবলার দিক নির্ণয় ভুল হয়েছিল।

তবে কিবলা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে নামাজ আদায় শুরু করার পর যদি নামাজের মাঝে কিবলার সঠিক দিক সম্পর্কে জানা যায় তাহলে সাথে সাথে সেদিকে ঘুরে যেতে হবে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

CPM NETWORK

আর্কাইভ

SEO Solution Lab
©somakalerpata
Developer Design Host BD