ক্রমাগত যেন ব্যাটিং-বান্ধব হয়ে উঠছে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট। তাওহীদ হৃদয় ছাড়া যেখানে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার সেভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না, সেখানে তৃতীয় ইনিংস ও চতুর্থ দিনে ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কোনো বেগ পেতে হচ্ছে না। পিচে সেই অর্থে কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না স্বাগতিক বোলাররা। ফলে অনায়াসে রান তোলা ক্যারিবীয়দের লিড দেড়শ পেরিয়েছে।
এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান করেছে রোস্টন চেজের দল। বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৬৬ রান। ক্রিজে কাভেম হজ ৫৩ ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম ৪৪ রানে অপরাজিত আছেন। দুজনের জুটিও ছুটছে একশ’র দিকে। তৃতীয় উইকেটে এখন পর্যন্ত হজ-উইকহ্যাম ৭৭ রান যোগ করলেন।
গতকাল ৩০ রানে পিছিয়ে থেকে পড়ন্ত বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্যারিবীয়রা ৭ রানে দিন শেষ করে। সেখান থেকেই আজ (রোববার) চতুর্থ দিন শুরু হয়। এদিন শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন দুই ক্যারিবীয় ওপেনার। দুজন মিলে গড়েন ৮৫ রানের জুটি। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশি পেসাররা গতি-সুইংয়ের ঝড় তুললেও দ্বিতীয় ইনিংসে পাত্তা দিচ্ছে না উইন্ডিজ ব্যাটাররা। শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাট করা সফরকারীদের দু’বার ধাক্কা দিয়েছেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজ।
মিরপুরে স্পিনসহায়ক উইকেটেও অকার্যকর বোলিংয়ে সমালোচিত ছিলেন তাইজুল-মিরাজরা। তাইজুল ইসলামের হাত ধরেই এদিন প্রথম সাফল্য আসে। তার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে জশুয়া ডা সিলভা ৩৬ রানে ফেরেন। ভাঙে সফরকারীদের ওপেনিং জুটি। অবশ্য ততক্ষণে তারা ৫৫ রানের লিড নিয়ে ফেলে। ওপেনিং সঙ্গী বিদায় নিলেও টেস্ট ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ ফিফটি পূর্ণ করেন ব্রেন্ডন কিং। ক্রিজে নামা কাভেম হজকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হাত খুলে মেরেছেন।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিও দ্রুতগতিতে আগাচ্ছিল। ৩৪ রানের সেই জুটি ভেঙে ব্রেকথ্রু দেন মিরাজ। ৬১ রান করা কিংকে স্লিপে শান্ত’র হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফিরিয়েছেন তিনি। সামনের পায়ে এগিয়ে ডিফেন্স করতে গিয়ে বলটি কিংয়ের ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে যায় স্লিপে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে ওই উইকেটই কিছুটা স্বস্তির ছিল বাংলাদেশের জন্য!
[atn_photocard]