সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একমাত্র লক্ষ্য—এমন বার্তা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। গতকাল বরিশালে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, ‘শপথ নেওয়ার দিনই বলেছিলাম, আমরা জাতিকে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই। আজকের আলোচনা ছিল সেই অঙ্গীকার স্মরণ করিয়ে দেওয়া।

ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা হবে
তিনি আরো বলেন, “আমাদের প্রতিশ্রুতি এবং প্রধান উপদেষ্টার অঙ্গীকার একটিই—জাতিকে একটি ‘ফ্রি, ফেয়ার ও ক্রেডিবল’ নির্বাচন উপহার দেওয়া। কর্মকর্তারাও সে লক্ষ্যেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাঁরা তাঁদের সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করবেন।”
বিগত তিনটি নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন আগেরগুলোর মতো হবে না।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো। ৫ আগস্ট যে রকম পরিস্থিতি ছিল, এখন তা নেই। তখন অনেকে নিজের বাড়ি পাহারা দিতেন, পুলিশও অনেকটা নিষ্ক্রিয় ছিল। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সক্রিয়তার কারণে সার্বিক অবস্থা উন্নত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে, এটা আমাদের সামাজিক বাস্তবতা। তবে বড় ধরনের ঘটনার আশঙ্কা নেই। চ্যালেঞ্জ আসবেই, আমরা তা হাসিমুখে মোকাবেলা করব।’
প্রতীক বণ্টন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইসির তালিকাভুক্ত প্রতীকের মধ্যে ‘শাপলা’ নেই।
তাই কোনো প্রার্থীকে এই প্রতীক দেওয়া সম্ভব হয়নি।”
নির্বাচন আয়োজন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রমজানের আগে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সে অনুযায়ী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হবে।’
প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কমিশনের উদ্যোগের কথাও জানান সিইসি। তিনি বলেন, ‘বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা যেন ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। ডিজিটাল ও অ্যানালগ—দুই পদ্ধতির সমন্বয়ে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। এমনকি নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারীরাও যেন ভোট দিতে পারেন, সে ব্যবস্থাও থাকবে।”
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘সরকার দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না।’
সিইসি বলেন, ‘জাতির প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি অটুট। সবার সহযোগিতায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করাই আমাদের লক্ষ্য।’
সভায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার রায়হান কাওছার, বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলামসহ ইসির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।