বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর কনেকে চিনতে না পারার অভিযোগ, বিয়ে গড়াল আদালত–কারাগারে বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর কনেকে চিনতে না পারার অভিযোগ, বিয়ে গড়াল আদালত–কারাগারে

CPM NETWORK

Cpm Network

বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর কনেকে চিনতে না পারার অভিযোগ, বিয়ে গড়াল আদালত–কারাগারে

সমকালের পাতা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
thakurgaon 20260120091515

বিয়ের আনন্দ আর নতুন জীবনের স্বপ্ন মুহূর্তেই রূপ নেয় তীব্র বিরোধে। বাসররাতে কনে মুখ ধোয়ার পর তাকে চিনতে না পারার অভিযোগ তুলে নববিবাহিতা স্ত্রীকে ফেরত পাঠান বর। ‘কনে বদল’-এর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিয়ে এখন আদালত ও কারাগার পর্যন্ত গড়িয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকায়। বর রায়হান কবিরের দাবি, বিয়ের আগে যে তরুণীকে দেখানো হয়েছিল, বাসরঘরে উপস্থিত কনে সেই ব্যক্তি নন। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারে চরম উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে বিষয়টি আদালতে পৌঁছে।

জানা গেছে, গত বছরের ১ আগস্ট ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার বাসিন্দা রায়হান কবিরের সঙ্গে রাণীশংকৈলের বাসিন্দা জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের রাতেই বরপক্ষ কনে বদলের অভিযোগ তোলে। পরবর্তীতে একাধিকবার পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক বর রায়হান কবির ও তার দুলাভাই মানিক হাসানকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। এর জবাবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবির কনের বাবা ও ঘটক মোতালেবের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন।

উভয়পক্ষের মামলার প্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আদালত রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বরের মামা বাদল অভিযোগ করে বলেন, ঘটকের মাধ্যমে পাত্রী দেখানো হলেও পরবর্তীতে কৌশলে অন্য মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিয়ের রাতে বিষয়টি বোঝা যায়নি। কিন্তু বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর সন্দেহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা করা হয়েছে।

অন্যদিকে কনের বাবা জিয়ারুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেয়েকে ছেলেপক্ষ বিয়ের আগেই তাদের বাড়িতে এসে দেখেছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে বহু বরযাত্রী উপস্থিত ছিলেন। এমন অবস্থায় কনে বদলের অভিযোগ অবান্তর। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পরদিন থেকেই ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। সেই দাবি পূরণ না করায় তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঘটক মোতালেব বলেন, তিনি কোনো ভিন্ন মেয়েকে দেখাননি। মেয়ের বাবার বাড়িতেই পাত্রী দেখানো হয়েছিল এবং দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত ছেলেপক্ষই নেয়।

ছেলেপক্ষের আইনজীবী ও ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, এটি একটি গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ। শুরুতে সমঝোতার চেষ্টা থাকলেও ব্যর্থ হওয়ায় বিষয়টি এখন পুরোপুরি বিচারাধীন। আদালতের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

CPM NETWORK

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২৩
৪৫৬৭৮৯১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
SEO Solution Lab
©somakalerpata
Developer Design Host BD