কক্সবাজার বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম কক্সবাজার বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

CPM NETWORK

Cpm Network

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

সমকালের পাতা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
biaa medical camp 1 1790582141

কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক মানের নতুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। নতুন এই টার্মিনালের কার্যক্রম শুরুর ফলে দীর্ঘদিনের যাত্রীভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেন, পুরোনো টার্মিনালে ফ্লাইটপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০, কখনো সাড়ে ৫০০ যাত্রীও হয়ে যেত। ফলে টার্মিনালের ধারণক্ষমতার বাইরে চাপ তৈরি হতো। নতুন টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পরে হবে। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, নতুন টার্মিনালে যাত্রীরা বড় পরিসরের জায়গা, পর্যাপ্ত কাউন্টার ও বসার সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে টার্মিনাল পরিচালনায় কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সেটিও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালটিতে রয়েছে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার, ১০টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং দুটি আধুনিক ব্যাগেজ ক্লেইম বেল্ট। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে সাতটি স্ক্যানার, মেটাল ডিটেকশন ব্যবস্থা এবং হোল্ড ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের আলাদা সুবিধা। যাত্রী চলাচলের জন্য রয়েছে চারটি এসকেলেটর ও ছয়টি লিফট। পাশাপাশি রয়েছে বোর্ডিং ব্রিজ ও আধুনিক লাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা।

বেবিচক সূত্র জানায়, নতুন টার্মিনালে বছরে প্রায় ২০ লাখ যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে বিদেশি বিভিন্ন সরঞ্জামের টেস্টিং ও কমিশনিংও সম্পন্ন হয়েছে।

নতুন টার্মিনাল নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরাও। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশন) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, নতুন টার্মিনালে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এটি শুধু ইউএস-বাংলা নয়, সব এয়ারলাইন্সের জন্যই ইতিবাচক। এর ফলে যাত্রীরা আগের তুলনায় আরও ভালো সেবা ও সুবিধা পাবেন।

তিনি বলেন, শুধু কক্সবাজার নয়, দেশের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরও আধুনিকায়ন করা হলে তা এয়ারলাইন্স ও যাত্রী উভয়ের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।

ঢাকার যাত্রী রাকিব হাসান বলেন, আগে কক্সবাজার বিমানবন্দরের টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড়ের কারণে অনেক সময় দাঁড়ানোর জায়গাও পাওয়া যেত না। নতুন টার্মিনালটি অনেক বড় ও সুন্দর। এখানে যাত্রীদের চলাচল ও বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। এতে ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে হচ্ছে।

আরেক যাত্রী নাজমা আক্তার বলেন, নতুন টার্মিনালে ঢুকেই আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তি অনুভব করেছি। চেক-ইন কাউন্টার, বসার জায়গা ও অন্যান্য সুবিধা সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে কক্সবাজারের যাত্রীদের জন্য এটি আরও বড় সুবিধা হবে।

যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, আগে টার্মিনালে একসঙ্গে অনেক যাত্রী হলে বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতো। নতুন টার্মিনালটি প্রশস্ত হওয়ায় সেই সমস্যা থাকবে না বলে মনে হচ্ছে। আধুনিক এই সুবিধা কক্সবাজারের বিমানযাত্রাকে আরও সহজ করবে।

যাত্রী তানভীর আহমেদ বলেন, কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন শহরের বিমানবন্দরে এমন আধুনিক টার্মিনাল অনেক আগেই প্রয়োজন ছিল। এখন যাত্রীদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকরাও ভালো সেবা পাবেন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে এর গুরুত্ব আরও বাড়বে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

CPM NETWORK

আর্কাইভ

SEO Solution Lab
©somakalerpata
Developer Design Host BD