প্রযুক্তির ব্যবহার ও ডিজিটাল নৈতিকতা রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা প্রযুক্তির ব্যবহার ও ডিজিটাল নৈতিকতা রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা

রসাম হাউজ

আচার

প্রযুক্তির ব্যবহার ও ডিজিটাল নৈতিকতা রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা

সমকালের পাতা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
islam and technology ethics 20251103112059 1024x576 1

প্রযুক্তি মানুষের জন্য আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত। ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করা জায়েজ, যদি তা শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকে। এর মধ্যে দাওয়াহ প্রচার, শিক্ষা গ্রহণ, ব্যবসা পরিচালনা ও সামাজিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্য। প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রথম স্তর হলো হালাল উদ্দেশ্য নির্ধারণ। আল্লাহ তায়ালা বলেন: ‘বলো, আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু, সবকিছু বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ১৬২)

অনলাইনে সত্য প্রচার ও মিথ্যা প্রতিরোধ করা জরুরি। পবিত্র কোরআনে রয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ১১৯)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে, অতঃপর তা প্রচার করে তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।’ (সুরা যুমার, আয়াত : ১৮)

গোপনীয়তা রক্ষা করা ও অন্যের তথ্য চুরি না করা ওয়াজিব। কারও ব্যক্তিগত ছবি, চ্যাট বা তথ্য অনুমতি ছাড়া শেয়ার করা হারাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা একে অপরের গোপনীয়তা অনুসন্ধান করো না।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১২)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিমের জন্য হারাম তার ভাইয়ের সম্পদ ও সম্মান।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৪)

ডিজিটাল মাধ্যমে অশ্লীলতা, গীবত ও ফিতনা ছড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্লীল ছবি, ভিডিও বা মন্তব্য পোস্ট করা বড় গুনাহ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা অশ্লীলতা ছড়াতে ভালোবাসে মুমিনদের মধ্যে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা নূর, আয়াত : ১৯)

সময়ের অপচয় রোধ করা প্রযুক্তি ব্যবহারের শর্ত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেম, রিলস বা অর্থহীন স্ক্রল করা মাকরুহ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নেয়ামত সম্পর্কে মানুষ প্রতারিত স্বাস্থ্য ও অবসর।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)

ইসলামী রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মূলনীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র ডিজিটাল নিরাপত্তার দায়িত্বশীল। প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য সুরক্ষা ও সাইবার অপরাধ দমন রাষ্ট্রের ফরজ। কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি যাতে ডেটা চুরি না করে, তার জন্য আইন প্রয়োগ করা ওয়াজিব। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তোমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করো, যদিও তা আত্মীয়ের বিরুদ্ধে হয়।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ১৫২)

ডিজিটাল দাওয়াহ ও শিক্ষা প্রচারে প্রযুক্তি ব্যবহার করা সুন্নত। অনলাইনে কোরআন শিক্ষা, হাদিস ক্লাস বা ইসলামী কনটেন্ট তৈরি করা সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে সৎপথে ডাকে, তার জন্য তত সওয়াব—যতজন তা অনুসরণ করে।’ (মুসলিম: ২৬৭৪)

প্রযুক্তির ক্ষতিকর ব্যবহার যেমন—হ্যাকিং, ফিশিং বা ভাইরাস ছড়ানো—সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না।’ (সুরা-৭ আরাফ, আয়াত: ৫৬)

ডিজিটাল নৈতিকতা প্রসঙ্গে মহানবী (সা.)-এর বাণী—, ‘মুসলিম সেই, যার জবান ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ।’ (বুখারি: ১০)—এ হাদিস বর্তমানে ডিজিটাল জবান ও কি-বোর্ডের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

লেখক : মুহাদ্দিস ও ইসলাম বিষয়ক গবেষক

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
SEO Solution Lab
©somakalerpata
Developer Design Host BD