দেশের সব মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি চেয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ বিবেচনায় দোকান খোলা রাখার সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে তারা।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক লিখিত আবেদনে এ দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির পক্ষে আবেদনটিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু।
আবেদনপত্রে সংগঠনটি জানায়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের গুরুত্ব এবং এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগকে তারা সমর্থন করে। তবে বর্তমান ব্যবসা-বাণিজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
আবেদনে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট ও বিপণিবিতানের ব্যবসায়িক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, রাপা প্লাজা, সেজান পয়েন্ট, হোসাফ টাওয়ার, ফরচুন শপিং মল, টুইন টাওয়ার, সুবাস্তু শপিং কমপ্লেক্স, রাজধানী সুপার মার্কেট, পল্লবী কারনেশন, বমবম টাওয়ার, যমুনা ফিউচার পার্ক, মিরপুরের বিভিন্ন মার্কেট, শাহ আলী প্লাজা, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, গুলিস্তান, ইসলামপুর ও চকবাজার।
সংগঠনটির দাবি, এসব মার্কেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মার্কেট ও বিপণিবিতানে ক্রেতা সংকট এবং বিক্রিতে মন্দা দেখা দিয়েছে। রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখতে হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী দোকান পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন। কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনপত্রে আরও বলা হয়, দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় আড়াই কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িত। এসব ব্যবসা ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, তাদের কর্মচারী, পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পেশার মানুষও আর্থিক সংকটে পড়বেন। এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও বাজারব্যবস্থার ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
ব্যবসায়ীদের যুক্তি, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেও ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব। রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা তাদের হারানো বিক্রির সময় ফিরে পাবেন। বিশেষ করে শীতের মৌসুমে সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত অনেক ক্রেতা কেনাকাটার জন্য মার্কেটে আসেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবসায়ীরা বিক্রির গুরুত্বপূর্ণ সময় থেকে বঞ্চিত হন।
সংগঠনটি মনে করে, রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হলে ক্রেতারা কেনাকাটার জন্য বাড়তি সময় পাবেন এবং ব্যবসায়ীদের বিক্রি বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ধরে রাখা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে সহায়তা মিলবে।
আবেদনপত্রের শেষাংশে দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের বর্তমান পরিস্থিতি, বিনিয়োগের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ বিবেচনা করে রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত দেশের সব মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দিয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি নির্দেশনা জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।
[atn_photocard]