উত্তরাঞ্চলে শরতেই কুয়াশার আগমন উত্তরাঞ্চলে শরতেই কুয়াশার আগমন

CPM NETWORK

Cpm Network

উত্তরাঞ্চলে শরতেই কুয়াশার আগমন

সমকালের পাতা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
rnpur 1

শরতের শুরুতেই দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জনপদে দেখা দিয়েছে ঘন কুয়াশা। বিশেষ করে পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটে গত এক সপ্তাহ ধরে ভোরে কুয়াশার উপস্থিতি শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পঞ্চগড়ের গ্রাম থেকে শহরের সড়কগুলো ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। এতে কয়েক হাত দূরের জিনিসও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না এবং সড়কে যানবাহনের গতি কমে যায়।

কুয়াশার কারণে অনেক চালককে হেডলাইট জ্বালিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে দেখা গেছে। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো দেখা দিলে কুয়াশা কাটতে শুরু করে এবং পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার পরিবর্তন এবং আকাশে মেঘের অবস্থানের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে হঠাৎ মেঘ সরে গিয়ে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাওয়াও কুয়াশা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় সেখানে ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি বলেন, শরৎকালের শুরুতে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে আকাশে দীর্ঘ সময় মেঘের অবস্থান এবং হঠাৎ মেঘ সরে গিয়ে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাওয়াও কুয়াশা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভোরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উত্তরাঞ্চলে হালকা শীত অনুভূত হতে পারে। এ কারণে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

মঙ্গলবার সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের গলেহা কান্তমনি এলাকার বাসিন্দা আইবুল ইসলাম বলেন, ঘুম থেকে উঠে দেখেন চারপাশ কুয়াশায় ঢেকে গেছে। কয়েক হাত দূরের কোনো কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। সেপ্টেম্বর মাসে এর আগে এমন ঘন কুয়াশা দেখেননি তিনি।

জেলা শহরের ইজিবাইকচালক আজিজুল ইসলাম বলেন, সকালে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়েও সামনে ঠিকমতো দেখা যাচ্ছিল না। এ কারণে ধীরে গাড়ি চালাতে হয়েছে তাকে।

কুড়িগ্রামের রৌমারীর চরাঞ্চলের বাসিন্দা আটোচালক জেল হোসেন বলেন, ভোরে অটো নিয়ে বের হয়ে পুরো এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢাকা দেখতে পান তিনি। তার ধারণা, এবার যেমন তীব্র গরম পড়েছে, তেমনি তীব্র শীতও আসতে পারে।

রংপুরের গঙ্গাচড়ার চর ইসলির কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ভোরে ঘন কুয়াশার কারণে জমিতে কাজ করতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না তিনি।

লালমনিরহাটের চর রাজপুরের গৃহবধূ রাবেয়া খাতুন বলেন, একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে ভোরে ঘন কুয়াশা। এ কারণে তাদের পরিবারের সবাই প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

এদিকে, আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ তানভীর আহমেদ বলেন, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে প্রতিদিনই হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশুরা প্রচণ্ড জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

উত্তরাঞ্চলের রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকাতেও ভোরে কুয়াশার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

CPM NETWORK

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
SEO Solution Lab
©somakalerpata
Developer Design Host BD