তিস্তা প্রকল্পে ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয়, সুফল পাচ্ছেন ১০ লাখ কৃষক তিস্তা প্রকল্পে ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয়, সুফল পাচ্ছেন ১০ লাখ কৃষক
শিরোনাম :
টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষা করাই নীতি: অর্থমন্ত্রী ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় : আইজিপি ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পূজা চেরির বাবা কারাগারে নির্যাতন বন্ধে সমাজ ও প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন প্রয়োজন : আইনমন্ত্রী তিস্তা প্রকল্পে ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয়, সুফল পাচ্ছেন ১০ লাখ কৃষক উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিগত সরকারের লুটপাটের কারণে আমরা ঋণের বিশাল বোঝা পেয়েছি : তথ্যমন্ত্রী বিমানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরে : শিক্ষামন্ত্রী একদিনে হাম ও উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু

রসাম হাউজ

আচার

তিস্তা প্রকল্পে ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয়, সুফল পাচ্ছেন ১০ লাখ কৃষক

সমকালের পাতা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
Screenshot 6

উত্তরের চার জেলার কৃষকদের জন্য তিস্তা সেচ প্রকল্প আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সমস্যায় যখন ভুগছিলেন কৃষকরা তখন তাদের আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে এই সেচ প্রকল্প। নির্বিঘ্নে পানি পাওয়ায় উৎপাদন বাড়ার প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা। 

চলমান বোরো মৌসুমে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দেশের অনেক স্থানে সেচ কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। আর এই সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান।

তবে উত্তরের নীলফামারী, দিনাজপুর, বগুড়া ও রংপুর এ ৪ জেলায় কোনো ধরনের বাড়তি বিড়ম্বনা ছাড়াই তিস্তা সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবহার করে নিরবচ্ছিন্নভাবে বোরো আবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রায় ৪ জেলার ১০ লাখ কৃষক। ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত সেচের তুলনায় সাশ্রয়ী ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হওয়ায় প্রতি বছরই এ প্রকল্পের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। ফলে প্রতিবছরই বাড়ছে আবাদি জমির সংখ্যা। যদি তিস্তা খনন করে এই ক্যানেলগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়, তাহলে উৎপাদন বাড়বে আরও কয়েক গুণ বলে দাবি কৃষকদের। 

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রধান সম্প্রসারণ কর্মকর্তার (কমি.ডেভো) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি (২০২৫-২৬) বোরো মৌসুমে উত্তরের চার জেলার মোট ১২ উপজেলার ৫০ হাজার হেক্টর জমি তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় এসেছে। প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী জেলার পাঁচটি উপজেলায় (সদর, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর) ৩২ হাজার হেক্টর, দিনাজপুর জেলার তিনটি উপজেলায় (খানসামা, চিরিরবন্দর ও পার্বতীপুর) ছয় হাজার হেক্টর, বগুড়ায় ২৩ হাজার হেক্টর এবং রংপুর জেলার চারটি উপজেলায় (সদর, গংগাচড়া, তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ) ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে। তিস্তা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে বিভিন্ন খালের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সম্প্রতি সরজমিনে দেখা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার সয়রা বাড়ি ও বাকপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার খালের (এস আটটি) মাধ্যমে তিস্তা নদীর পানি এনে প্রায় ১৩০ একর জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে নদীতে ৮-৯ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছে, যা গত বছরের এ সময়ে ছিল মাত্র তিন হাজার কিউসেক। তিস্তা প্রকল্পের এমন সেচ ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট স্থানীয় কৃষকেরা। 

গংগাচড়ার বড়বিল ইউনিয়নের কৃষক আব্দুস সালামের সঙ্গে আপলাপকালে বলেন, অন্য উৎস থেকে এক একর জমিতে সেচ দিতে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে তিস্তা প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে মাত্র ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় সেচ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি এক একর জমিতে ৮৫-৯০ মণ ফলনের আশা করছেন। কৃষকদের মতে, তিস্তার পানিতে থাকা পলি মাটির উর্বরতা বাড়ায়।

আলমবিদিতর ইউনিয়নের পানি ব্যবস্থাপনা দলের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী বলেন, ‘তিস্তার পানিতে পলি থাকায় জমিতে একটি আস্তরণ তৈরি হয়, যা দীর্ঘক্ষণ পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত হওয়ায় রাসায়নিক সারের ব্যবহার অনেকাংশে কমে আসে। ফলে অন্য সেচ ব্যবস্থার তুলনায় এখানে বিঘা প্রতি ৩-৪ মণ ফলন বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

তবে সুফল থাকলেও কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বাকপুর পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মালেক জানান, ফেব্রুয়ারির আগে পানি না পাওয়ায় অনেককে বীজতলা তৈরির সময় বিকল্প উৎস ব্যবহার করতে হয়েছে। এছাড়া কাঁচা খালে ইঁদুরের গর্ত এবং উঁচু-নিচু জমিতে পানি পৌঁছানোর সমস্যা তো রয়েছেই।

এছাড়া নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় কিছু খালের সংস্কারকাজের জন্য সাময়িকভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জানুয়ারির শুরু থেকেই পানি সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ বিদ্যমান সমস্যা দূর করার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় কৃষকরা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, তিস্তা সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬০ কোটি টাকার ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে। চৈত্র মাসে আগাম বৃষ্টির কারণে এবার নদীতে পানি বেশি, জলবায়ু পরিবর্তনের সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা।

সেচের সময় এগিয়ে আনার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধান, তামাক, ভুট্টাসহ ভিন্ন ভিন্ন ফসলের কারণে সেচের সময় সমন্বয় করতে হয়। কৃষকরা যদি একই ধরনের ফসল আবাদ করেন, তবে এ সমস্যা নিরসন সম্ভব। বেশকিছু খালের সংস্কারকাজ চলায় এ বছর জমির পরিমাণ আর বাড়ানো সম্ভব হয়নি, তবে আগামী দুই মাস এ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
SEO Solution Lab
©somakalerpata
Developer Design Host BD