ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৮ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় মামলাটির অগ্রগতি নিয়ে আবারও অপেক্ষা বাড়ল। এ নিয়ে ১৫তম বারের মতো পেছানো হলো প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ।
বুধবার (১৭ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এদিন মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। ফলে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ২৮ জুন দিন ধার্য করেন।
এর আগে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আদালতে ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনি প্রচারণা শেষে মতিঝিল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দুই দিন পর ১৪ ডিসেম্বর হাদির ওপর হামলার অভিযোগে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। শুরুতে মামলাটি হত্যাচেষ্টার হলেও হাদির মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
পরবর্তীতে ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ও ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, হাদির রাজনৈতিক অবস্থান ও বিভিন্ন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।