২০২৫ সালে বাটার মুনাফা কমেছে ৯৬ শতাংশ ২০২৫ সালে বাটার মুনাফা কমেছে ৯৬ শতাংশ

রসাম হাউজ

আচার

২০২৫ সালে বাটার মুনাফা কমেছে ৯৬ শতাংশ

সমকালের পাতা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
bata logo 0

দেশের শীর্ষস্থানীয় জুতা প্রস্তুতকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান বাটা সু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ব্যবসায় বড় ধস নেমেছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৯৬ শতাংশ কমে গেছে।

মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং ব্যবসায়িক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে বছরের দীর্ঘ সময় প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের মুখে ছিল।

কোম্পানির প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাটার শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.৮৫ টাকা। আগের বছর (২০২৪ সালে) যা ছিল ২১.৬২ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে প্রায় ৯৬ শতাংশ।

আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাটা ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) থেকেই লোকসানের মুখে পড়ে। এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসান ছিল ৩৫.৬৭ কোটি টাকা। তবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ৩৬.৮২ কোটি টাকার বড় মুনাফা থাকায় বছর শেষে কোম্পানিটি কোনোমতে ১.১৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা করতে সক্ষম হয়েছে।

মুনাফায় বড় ধস নামলেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য আকর্ষণীয় লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে বাটা বাংলাদেশ। কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ অর্থবছরের জন্য ১০৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর আগে বছরের মাঝামাঝি সময়ে ১৪৩ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ প্রদান করা হয়েছিল। ফলে সব মিলিয়ে ২০২৫ অর্থবছরের জন্য বিনিয়োগকারীরা ২৪৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পাচ্ছেন।

লভ্যাংশ ও নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য আগামী ৩০ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ মে।

মুনাফা কমার খবরের প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারেও। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাটার শেয়ারের দাম ২ শতাংশ কমে ৮১৮.৭০ টাকায় লেনদেন শেষ হয়েছে।

কোম্পানিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে বাটা বাংলাদেশের মোট টার্নওভার (বিক্রির পরিমাণ) ছিল ৯১৬ কোটি টাকা। সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

এতে বলা হয়, ‘ভোক্তারা অপ্রয়োজনীয় খরচে সতর্ক হয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানটি তাদের কৌশল বদলেছে। এখন তারা গ্রাহককেন্দ্রিক পরিকল্পনায় জোর দিচ্ছে এবং যেসব পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে ক্যাজুয়াল জুতা, স্নিকার ও প্রিমিয়াম পণ্যে ভালো অগ্রগতি হয়েছে, যা বাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে মিলছে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যম মিলিয়ে একটি সমন্বিত বিক্রয়ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা সহজ অভিজ্ঞতা পান। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি খরচ কমিয়ে দক্ষভাবে পরিচালনায় জোর দিচ্ছে এবং নতুন উদ্ভাবনে বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে কোম্পানিটি ভালো অবস্থানে থাকবে।’

বাটা ১৯৬২ সাল থেকে বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। টঙ্গী ও ধামরাইয়ে তাদের দুটি বিশাল কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার জোড়া জুতা তৈরির সক্ষমতা রয়েছে। বছরে প্রায় ৩ কোটি জোড়া জুতা বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি। উল্লেখ্য, বাটা বাংলাদেশ নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বাফিন বিভি-এর একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, যারা বাটার ৭০ শতাংশ শেয়ারের মালিক।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

আর্কাইভ

SEO Solution Lab
©somakalerpata
Developer Design Host BD