জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে, আশঙ্কা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে, আশঙ্কা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

রসাম হাউজ

আচার

জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে, আশঙ্কা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

সমকালের পাতা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
press 2607020939

জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে নতুন মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গত দুই মাস ধরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু শনাক্তের জন্য এনএস১ পরীক্ষার কিট পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের হাসপাতালগুলোকে রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সেবাও চালু করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ মানুষকে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তার মতে, শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে নতুন উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে বিশেষ ধরনের মেডিকেল ট্যাবলেট সংগ্রহ করা হবে। জমে থাকা পানি, টায়ার, ডাবের খোসাসহ বিভিন্ন স্থানে এ ট্যাবলেট ব্যবহার করলে দ্রুত লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব হবে।

ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় বিশেষ সতর্কতার নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্লাজমা লিকেজের কারণে অনেক সময় রোগীর অবস্থা জটিল হয়ে পড়ে। এ কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি দৈনিক চিকিৎসা প্রটোকল তৈরি করে দেশের সব চিকিৎসকের কাছে মোবাইল ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। একইসঙ্গে হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জ্বর কমে গেলেও রোগী পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ছাড়পত্র না দিতে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘ ২৫ বছর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজে অত্যাধুনিক টেন-হেডেড মাইক্রোস্কোপ সংযোজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্যানসার শনাক্তকরণ আরও নির্ভুল হবে এবং চিকিৎসা শিক্ষার মানও উন্নত হবে। একইসঙ্গে মেডিকেল শিক্ষাক্রম আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটি সরকারি মালিকানায় থাকলেও আধুনিক করপোরেট ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। অলাভজনক এই হাসপাতাল থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ ও সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের আদলে ওয়ান-স্টপ জরুরি চিকিৎসাসেবা দেবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
SEO Solution Lab
©somakalerpata
Developer Design Host BD