আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন। পাশাপাশি এবার নির্বাচনে নতুন মুখের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো—প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ১ হাজার ৬৯৬ জন প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে অবস্থিত মাইডাস সেন্টারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনের মূল তথ্য উপস্থাপন করেন টিআইবির মুখপাত্র তৌহিদুল ইসলাম।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, এবারের নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর প্রার্থীর হার ৩৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর সম্মিলিত হার ৩৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তবে নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ এবারও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী মাত্র ৪ দশমিক ০২ শতাংশ, যা নির্ধারিত ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নিচে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ৬ জন এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ২৪ জন নারী প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ৪৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী—৬৫১ জন। এরপর ৫৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী ৫৩১ জন, ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ৪১৪ জন, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ৩৭৮ জন এবং ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ২০৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। বয়স সংক্রান্ত তথ্য অস্পষ্ট বা অনুপস্থিত রয়েছে ১০৯ জনের ক্ষেত্রে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও এবারের নির্বাচনে তুলনামূলকভাবে উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। মোট প্রার্থীর ৭৬ দশমিক ৪২ শতাংশ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। এর মধ্যে ২৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ স্নাতক এবং ৪৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। উচ্চ মাধ্যমিক পাস প্রার্থী ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং মাধ্যমিক পাস প্রার্থী রয়েছেন ৬ শতাংশের কিছু বেশি।
টিআইবির তথ্যে দেখা যায়, বিগত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে এবারই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রার্থীর হার সর্বোচ্চ। নবম সংসদ নির্বাচনে এই হার ছিল ৭১ দশমিক ২৩ শতাংশ, দশমে ৭১ দশমিক ৯১ শতাংশ, একাদশে ৬৭ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং দ্বাদশ নির্বাচনে তা নেমে আসে ৫৯ দশমিক ৩৩ শতাংশে।
পেশাগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী নিজেদের মূল পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছেন। আইনজীবী পেশার প্রার্থী ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং শিক্ষক পেশার ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এর পরেই রয়েছেন চাকরিজীবী ও কৃষিজীবী প্রার্থীরা। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন মাত্র ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী।